জাতীয় সংসদে সোমবার (৬ এপ্রিল) এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অধিবেশনে নির্বাচনব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয় এবং আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিল দুটি উত্থাপন করেন।

অধিবেশনের শুরুতেই আইনমন্ত্রী ১৯৯১ সালের ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন’ সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করেন। স্পিকারের অনুমতি পাওয়ার পর বিলটি আলোচনার জন্য তোলা হলে কোনো সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেননি। পরবর্তীতে দফাভিত্তিক আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। স্পিকার জানান, কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, বরং সর্বসম্মতিক্রমেই বিলটি গৃহীত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালী আরও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরপর আইনমন্ত্রী ২০২১ সালের ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন’ সংশোধনের লক্ষ্যে আরেকটি বিল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, সময়ের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও সুসংহত করতেই এই উদ্যোগ।

এই বিলের ক্ষেত্রেও কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় দফা অনুযায়ী আলোচনা শেষে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদন পায়। দফা ২ ও ৩ এবং বিলের শিরোনামসহ সংশ্লিষ্ট অংশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে পাস ঘোষণা করা হয়।

বিল দুটি পাসের সময় আইনমন্ত্রী সংক্ষেপে এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, কোনো বিরোধিতা না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান নির্বাচনী সংস্কারের অংশ হিসেবেই এই সংশোধনীগুলো আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বি.দ্র. ছবি সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »