সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

ওয়ার্ল্ডনিউজবিডি২৪ অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ঘটনাবলীর প্রকৃত সত্য সম্পর্কে সর্বজ্ঞ একমাত্র আল্লাহই পূর্ণ সাক্ষী, আর মানুষ হিসেবে আমরা কেবল আংশিকভাবে তা উপলব্ধি করতে পারি।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপিত হলে এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের অনুমতিতে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম বাস্তবতা

শফিকুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তবে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের শাসনব্যবস্থায় সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটের প্রতি অসম্মান এবং রাজনৈতিক সংকটের কারণেই মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। কিন্তু স্বাধীনতার পর শাসকগোষ্ঠী সেই শিক্ষা ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাকশাল ও রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ

বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র বিলুপ্ত করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে অল্প সময়ের আলোচনায় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং বর্তমান সংসদ সেই ধারারই অংশ।

জামুকা আইনের সংজ্ঞা নিয়ে আপত্তি

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এতে কিছু রাজনৈতিক দলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে নির্দিষ্ট কিছু দলকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “কে কী ভূমিকা রেখেছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিচার আল্লাহই জানেন।”

ঐক্যের আহ্বান

বিরোধীদলীয় নেতা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার মানসিকতা প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭৯ সালের রাজনৈতিক দল অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিভিন্ন দল পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পায় এবং সেই ধারাবাহিকতায় তার দলও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিল পাসে আপত্তিহীনতা

আলোচনার পর স্পিকার সংসদকে জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিলটির বিষয়ে কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলটি পাসের আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্পিকার বলেন, যেহেতু বিরোধীদলীয় নেতা আপত্তি জানাননি, তবুও তিনি চাইলে বক্তব্য দিতে পারেন। পরে মন্ত্রীর অনুরোধে বিলটি উত্থাপিত আকারেই গৃহীত হয়।

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে সংসদে আবারও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »