ওমর সানী ও মৌসুমী ছবি : ওমর সানীর ফেসবুক থেকে

বিনোদন ডেস্ক:
পুরোনো দিনের এক ঝলক কখনো কখনো ফিরিয়ে আনে অমূল্য স্মৃতি। ঠিক তেমনই একটি মুহূর্তে ফিরে গেলেন ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটি ওমর সানী ও মৌসুমী। বহু বছর আগের একটি ছবি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছেন এই অভিনেতা।

সম্প্রতি এক শুভাকাঙ্ক্ষীর পাঠানো ছবিটি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন ওমর সানী। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, সময়ের সঙ্গে সবকিছুই একসময় স্মৃতিতে পরিণত হয়—আজকের বর্তমানও একদিন অতীত হয়ে ফিরে দেখা দেবে।

প্রথমে ছবিটি কোথায় বা কবে তোলা হয়েছিল, তা মনে করতে পারেননি তিনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে এফডিসিতে একটি সিনেমার শুটিংয়ের ফাঁকে ছবিটি ধারণ করেছিলেন আলোকচিত্রী শিবেন সরকার। সেটটি ছিল জসীম ফ্লোরে, যদিও নির্দিষ্ট সিনেমার নাম এখন আর কারও মনে নেই।

ওমর সানীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি তোলা হয়েছিল তাঁদের বিয়ের আগেই, যখন দুজনের মধ্যে নতুন করে ভালো লাগার শুরু। এমনকি ছবিতে মৌসুমীর পরনে থাকা টি-শার্টটিও ছিল সানীর।

প্রথম দেখা থেকে ভালোবাসা

এই জুটির প্রথম পরিচয় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরতে। পরে ১৯৯২ সালে মৌসুমীর বাসায় তাঁদের প্রথম আনুষ্ঠানিক আলাপ হয়। সেই সময় এক ছবিতে কাজের প্রস্তাব এলেও মৌসুমী অন্য ব্যস্ততার কারণে তা ফিরিয়ে দেন, যা কিছুটা হতাশ করেছিল সানীকে।

তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যায় পরিস্থিতি। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর তাঁদের একসঙ্গে নিয়ে নতুন সিনেমা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ‘দোলা’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধেন তারা।

শুটিংয়ের সময় কিছু মনোমালিন্য হলেও ধীরে ধীরে একে অপরের প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়। বিশেষ করে মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব ও পারিবারিক পরিবেশ সানীর মনে গভীর প্রভাব ফেলে।

ভালোবাসার প্রকাশ ও বিয়ে

একটি ম্যাগাজিনে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে হঠাৎ করেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন ওমর সানী। তিনি বলেন, তিনি মৌসুমীকে ভালোবাসেন—যদিও সে ভালোবাসার প্রতিদান কী, তা তখনো নিশ্চিত ছিলেন না।

এই খোলামেলা স্বীকারোক্তির পর আর বেশি সময় লাগেনি সম্পর্ক এগোতে। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ গোপনে বিয়ে করেন এই জুটি। পরে তাঁরা একসঙ্গে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন।

বর্তমানে ওমর সানী অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও ব্যবসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে মৌসুমী অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

তবে পুরোনো একটি ছবি যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—সময়ের সঙ্গে পাল্টে গেলেও কিছু স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »