
ওয়ার্ল্ডনিউজবিডি২৪ ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’। এর মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের একটি স্থায়ী আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলো।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করেন। অধিবেশন পরিচালনাকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি কণ্ঠভোটে দিলে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে ‘হ্যাঁ’ বলে সমর্থন জানান। পরে বিলটি পাসের ঘোষণা দেওয়া হলে সংসদ কক্ষে দীর্ঘ করতালি, টেবিল চাপড়ানো এবং দাঁড়িয়ে অভিবাদনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়।
সংসদের ভেতরে-বাইরে এই বিলকে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক সংসদ সদস্য একে “বিপ্লবের আইনি স্বীকৃতি” বলেও অভিহিত করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়, যা বিলটির সর্বসম্মত পাসের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিলের মূল লক্ষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারকে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান, আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং তাদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং এর আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ জুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একই বিষয়ের ওপর একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সংসদে নতুন এই বিল পাসের মাধ্যমে সেই অধ্যাদেশ এখন স্থায়ী আইনে রূপ পেল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন শুধু কল্যাণমূলক উদ্যোগ নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করবে।
